অর্থসঙ্কটে এডিপির ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে চাচ্ছে না সরকার

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে চায় না সরকার। কারণ, এক দিকে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, অন্য দিকে করোনায় আয়-ব্যয়ের বিশাল ভারসাম্যহীনতার কারণে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অর্থসঙ্কটে ভুগছে সরকার। উপরন্তু, কোভিড-১৯ বা করোনা পরিস্থিতিতে সোয়া লাখ কোটি টাকার বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের কারণে এই অর্থসঙ্কট এখন অনেকটা তীব্র আকার ধারণ করেছে। অর্থসঙ্কটের মূল কারণ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হওয়া। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরেই এনবিআর খাতে রাজস্ব আদায়ের সার্বিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটানোর জন্য গত অর্থবছরে ব্যাংকব্যবস্থা থেকেই সরকারকে ঋণ নিতে হয়েছে ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এই বাস্তবতায় সরকার নানা দিক থেকে ব্যয় সঙ্কোচনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩০ ভাগ কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অর্থছাড়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থ কোনোভাবেই ছাড় করা যাবে না। আর এতে করে সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

গেল সপ্তাহে অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এ সম্পর্কিত এক পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিভুক্ত প্রকল্পগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সীমিত সম্পদের ব্যয়সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে চলতি অর্থবছরের এডিপিভুক্ত প্রকল্পগুলোর উচ্চ/মধ্যম/নি¤œ অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়/বিভাগ/ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং অধীনস্থ দফতর/সংস্থাগুলো ‘উচ্চ অগ্রাধিকার’ চিহ্নিত প্রকল্পগুলো যথানিয়মে বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘মধ্যম অগ্রাধিকার’ চিহ্নিত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে প্রকল্পের যেসব খাতে অর্থ ব্যবহার অবশ্যাম্ভাবী বলে বিবেচিত হবে, মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং অধীনস্থ দফতর/সংস্থাগুলো স্বীয় বিবেচনায় সেসব খাতে অর্থ ব্যয় করবে। এ ক্ষেত্রে যেসব অর্থনৈতিক কোডের ব্যয় পরিহার করা সম্ভব, সেসব কোডের ব্যয় আবশ্যিকভাবে পরিহার করতে হবে।

প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের ‘উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ অবমুক্তি ও ব্যবহার নির্দেশিকা ২০১৮’ সহ বিদ্যমান আর্থিক বিধি-বিধান ও নিয়মাচার যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্যও পরিপত্রে বলা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা গতকাল শনিবার জানান, চলতি অর্থবছরে এডিপির যেসব প্রকল্প রয়েছে তার ৪০ ভাগ আমরা উচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করেছি। বাকি ৬০ ভাগের অর্ধেক অর্থাৎ, ৩০ ভাগ মধ্য অগ্রাধিকার এবং বাকি ৩০ ভাগ নিম্ন বা কম অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করেছি। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে বলেছিলাম এ মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে যেন তারা তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ৩০ ভাগ নি¤œ অগ্রাধিকার প্রকল্পের তালিকা চিহ্নিত করে। এই তালিকার কপিও নিজ নিজ মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। আমরা এই তালিকার প্রকল্পগুলোর অর্থছাড় স্থগিত করেছি। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দেখব পরিস্থিতি কোন দিকে যায়। তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এই স্থগিতাদেশের সময় বাড়বে না কমবে। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে এডিপির প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আমাদের আর খরচ করতে হচ্ছে না।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দ্ইু লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার এডিপিতে প্রকল্প রয়েছে এক হাজার ৫৮৮টি। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ বা ৪৭১ প্রকল্পের বিপরীতে অর্থছাড় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

image_pdfপিডিএফ করুনimage_printপ্রিন্ট করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *