আহলান সাহলান মাহে রামাদান

বছর ঘুরে আবার এলো পবিত্র রমজান মাস। রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের পবিত্র মাহে রমজান। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ রাতে সেহ্‌রি খেয়ে রমজানের সিয়াম সাধনা শুরু করেন। শুরু হয়েছে মসজিদে মসজিদে তারাবিহ্‌। সন্ধ্যায় ইফতারের মাধ্যমে পূর্ণ হবে সিয়াম। তবে এবার করোনার মহামারির কারনে সবাই ঘরে বসেই রোজা রাখবে রোজাদারগণ। রমজানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন গুলোর নানামুখী কর্মসূচি পালন করা নিয়ে ধর্ম মন্ত্রনালয় থেকে নির্দেশ  দেয়া হয়েছে। করোনার কারনে এবার আর রমজানকে ঘিরে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা যাবে না।

তবে রমজান ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র একটি মাস। এই মাসে সিয়াম সাধনার পর উদযাপিত হবে মুসলিম বিশ্বের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। রোজাকে আরবি ভাষায় সিয়াম বা সাওম, আর ফার্সিতে রোজা বলা হয়। সাওম অর্থ বিরত থাকা।

আর শরীয়তের পরিভাষায় ফরজ রোজা রাখার নিয়তে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জিহ্বা অর্থাৎ কোনো কিছু পানাহার এবং স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকার নাম সাওম বা রোজা। মহান আল্লাহ্‌পাক রাব্বুল আলামীন মুমিন বান্দাদিগকে তাঁর কাছে টেনে নেয়ার জন্য এই পবিত্র মাসের রোজাকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন।

প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাতের এবং তৃতীয় দশ দিন দোজখ থেকে মুক্তির জন্য। আল্লাহ্‌ পাকের নির্দেশে আকাশের মেঘমালা বছরের প্রথমে যে বারিধারা বর্ষণ করে থাকে, তাতে মৃত জমিন যেমন সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা হয়ে পৃথিবীকে নবশক্তিতে বলিয়ান করে থাকে। অনুরূপভাবে মাহে রমজানের রোজা মুমিন বান্দাদের আত্মাকে নবশক্তিতে বলিয়ান করে। ইসলামের প্রথম স্তম্ভ নামাজ যেমন মুমিনদেরকে শিক্ষা দেয় শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তী হওয়ার তেমনি মাহে রমজানের রোজা শিক্ষা দেয়, তাক্‌ওয়া, সহিষ্ণুতা ও সংযম। এক মাস সংযম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহে নিয়ে আসে এক অনাবিল আনন্দ আর সুখের বার্তা।

image_pdfপিডিএফ করুনimage_printপ্রিন্ট করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *