কম দামে শেয়ার ও বাইব্যাকের নিশ্চয়তা দিচ্ছে ওয়ালটন

রুহান আহমেদ: পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারীর কবলে (করোনাভাইরাস) দেশের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় থাকা ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাষ্ট্রিজ।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানিটির আইপিওতে শেয়ারের যে দর নির্ধারিত হয়েছে তারচেয়েও ১০ শতাংশ কম দরে অর্থাৎ কাট অফ প্রাইস এর ২০% কম দরে দেয়া হবে। এর পাশাপাশি কোন বিনিয়োগকারী যদি কোম্পানিটির শেয়ার কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে তাহলে তার শেয়ার ইস্যু মূল্যের ৫ শতাংশ বেশি দরে কিনে নেয়া হবে।

আজ (রোববার, ৭ জুন) কোম্পানিটির পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও পরামর্শ চেয়ে দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোম্পানির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা টেলিগ্রাফকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, এই করোনা সংকটের কথা চিন্তা করেই ওয়ালটন বিনিয়োগকারীদের জন্য আরো ১০ শতাংশ কম দরে শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি কেউ যদি আমাদের শেয়ার কিনে কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে ইস্যু মূল্যের ৫ শতাংশ বেশি ধরে আমরা শেয়ার ফিরিয়ে নিব, তথা বাইব্যাক করবো। যেহেতু আমাদের দেশে এ ধরনের বাইব্যাক আইন এখনো হয়নি তাই আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে সহযোগিতা ও পরামর্শ চেয়েছি।

জানা গেছে, কাট অফ প্রাইসের ১০% এর স্থলে ২০% কমে কোম্পানিটি ১৫ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৬টি শেয়ার ইস্যু করবে।উল্লেখ্য, কোম্পানিটির কাট অফ প্রাইস ৩১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২ মার্চ বিকাল ৫টা থেকে টানা ৭২ ঘন্টা অর্থাৎ ৫ মার্চ বিকাল ৫টা পর্যন্ত ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের বিডিং অনুষ্ঠিত হয়। বিডিং শেষে কাট-অফ প্রাইস ৩১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৭১৪তম সভায় বিডিংয়ের মাধ্যমে কাট অফ প্রাইস নির্ধারণের জন্য ওয়ালটন হাইটেক লিমিটেডকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ওয়ালটন হাইটেক পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও আইপিও খাতে ব্যয় করবে। ৩০ জুন, ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুন:মূল্যায়ন সঞ্চিতিসহ শেয়ার প্রতি নেট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ২৪৩.১৬ টাকা এবং পুন:মূল্যায়ন সঞ্চিতি ছাড়া এনএভিপিএস ১৩৮.৫৩ টাকা এবং বিগত ৫ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কর পরবর্তী নিট মুনাফার ভারিত গড় হারে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ২৮.৪২ টাকা। কোম্পানির ইসু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

ঢাকা টেলিগ্রাফ/আর.এইচ

image_pdfপিডিএফ করুনimage_printপ্রিন্ট করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *