করোনায়ও থেমে নেই পদ্মা সেতুর কাজ; ২৯তম স্প্যান স্থাপন

ঢাকা টেলিগ্রাফ: করোনা মহামারির কারণে চারদিক স্তব্ধ, এরই মধ্যে গ্রীষ্মের রৌদ্রকরোজ্জ্বল সকালের পদ্মা সেতুর ২৯তম স্প্যান স্থাপন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সেতুর চার হাজার ৩৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। ১৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ৩১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি বসিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই সেতু অগ্রগতির আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।

আজ সোমবার সকালে মাওয়া অংশের ১৯ ও ২০তম খুঁটির উপর বসিয়ে দেওয়া হয় ‘৪এ’ নম্বর স্প্যানটি।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, সকাল থেকেই স্প্যানটি পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে এরপর খুঁটির উপর তুলে দেওয়া হয়। পৌনে ১১টা খুঁটিতে পুরোপুরি স্প্যানটি বসানো হয়।

এর আগে রোববার সকালে স্প্যানটিকে মাওয়ার কাছে কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেনে করে নিয়ে খুঁটির সামনে রাখা হয়। আজ সকাল থেকেই স্প্যানটিকে পিলারের উপর বসানোর কাজ শুরু হয়।  সোমবার ২৯তম স্প্যান স্থাপন ছাড়াও করোনার মধ্যেই গত ২৮ মার্চ সেতুর ২৭তম প্যান এবং ১২ এপ্রিল ২৮তম স্প্যান খুঁটিতে উঠে। এরপর ৩১ মার্চ ২৬ নম্বর খুঁটি বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুর সব খুঁটি সম্পন্ন হয়ে গেছে। ভিত সম্পন্ন হয়ে এবং অনবরত স্প্যান বসে যাওয়ায় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে বড় ধাপগুলো অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছে।

মোট ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘে্যর সেতুটি দ্বিতল হবে, যার ওপর দিয়ে সড়কপথ ও নিচের অংশে থাকবে রেলপথ। সেতুর এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। একেকটি খুঁটি ৫০ হাজার টন লোড নিতে সক্ষম।

বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূলসেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের ‘সিনো হাইড্রো করপোরেশন’।

image_pdfপিডিএফ করুনimage_printপ্রিন্ট করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *