ছাত্র অধিকার পরিষদের মশাল মিছিল, ‘আমাদের দমানো যাবে না’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে মামলা করার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। আজ সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাশেদ খান, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, সোহরাব হোসেনসহ বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, সহায়তা ও হুমকির অভিযোগে নুরুল হক নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা মামলা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

সমাবেশে ডাকসুর সাবেক নুরুল হক নূর বলেন, ‘আমি এখনো মামলার পুরো বিষয় জানি না। কে এই মামলার বাদী? কারা এর আসামি? এগুলো নিয়ে বিচলিত হতে চাই না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটা সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ। হয়তো মামলাকারী ছাত্রলীগের নেত্রী। তাঁকে দিয়ে টাকার বিনিময়ে এ মামলাটি করানো হয়েছে।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, ‘নুরুল হক নুরসহ আমাদের সহযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। বারবার আমাদের দমন করার জন্য এভাবে ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। কিন্তু তারা এসব প্রমাণ করতে প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে।’

রাশেদ খান বলেন, ‘আমাকেও ভিসির বাসভবনে হামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটিও প্রমাণ করতে পারেনি। এ ছাড়া এর আগেও বিএনপির তারেক রহমানের সঙ্গে নুরুল হক নুরের ভুয়া চ্যাটিং ভাইরাল করে আমাদের দমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আমাদের কোনো হামলা-মামলা দিয়ে দমানো যাবে না।’

গতকাল রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী রাজধানীর লালবাগ থানায় এ মামলাটি করেন।

এ মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ১. হাসান আলম মামুন, ২. নাজমুল হাসান সোহাগ, ৩. মো. নুরুল হক, ৪. মো. সাইফুল ইসলাম, ৫. মো. নাজমুল হুদা, ৬. মো আব্দুল্লাহ হিল বাকি।

এজাহারে বাদীর উল্লেখ করা বয়ান

‘আসামি হাসান আলম মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সপ্তম ব্যাচের ছাত্র। তিনি আমার ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই এবং বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সুবাধে আমার সঙ্গে পরিচয় হয়।’

‘২০১৮ সালের ২৯ জুলাই আসামি আমার বিভাগের সিনিয়র হওয়ায় তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়। সম্পর্কের একপর্যায়ে আসামির সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় আসামির সঙ্গে আমার বিভিন্ন সময়ে ম্যাসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কথোপকথন হয়। সেখানে আসামি আমাকে শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আসামি গত ৩ জানুয়ারি অনুমান দুপুর ২টায় তার বাসা নবাবগঞ্জ বড় মসজিদে যেতে বলে এবং আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার বাসায় ধর্ষণ করে।’

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, ‘ঘটনার পর গত ৪ জানুয়ারি আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। ১২ জানুয়ারি আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় মামুনের বন্ধু সোহাগের মাধ্যমে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আমি ক্যাম্পাস রিপোর্টারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে মামুন ও সোহাগ তা হতে দেয়নি। এর আগে মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে রাজি হয়, কিন্তু আমি অসুস্থ হওয়ার পর সে নানা টালবাহানা শুরু করে।’

‘এরপর উপায়ান্তর না দেখে গত ২০ জুন বিষয়টি ভিপি নুরকে মৌখিকভাবে জানাই। সে বলে, মামুন আমার পরিষদের, আমার সহযোদ্ধা। তার সঙ্গে বসে একটা সুব্যবস্থা করে দেব। এরপর ২৪ জুন মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে তিনি আমার সঙ্গে নীলক্ষেতে দেখা করতে আসেন। কিন্তু মীমাংসার বিষয়টি এড়িয়ে আমাকে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। আমি যদি বাড়াবাড়ি করি তাহলে তার ভক্তদের দিয়ে ফেসবুকে আমার নামে উল্টাপাল্টা পোস্ট করাবে এবং আমাকে পতিতা বলে প্রচার করবে বলে হুমকি দেয়। তাদের ছাত্র অধিকার পরিষদের ১.১ মিলিয়ন সদস্যের গ্রুপে এ প্রচারণার হুমকি দেওয়া হয়। নুর আরো জানায়, তার একটি লাইভে আমার সব সম্মান চলে যাবে। ইতোমধ্যে মামলার চার নম্বর আসামি সাইফুল ইসলাম আমার নামে কুৎসা রটিয়েছে এবং ৫ ও ৬ নম্বর আসামিকে লাগিয়ে দেয় কুৎসা রটাতে। তারা ম্যাসেঞ্জার চ্যাট গ্রুপে আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করাসহ সম্মিলিতভাবে চক্রান্ত করে।’

এজাহরে বাদী আরো বলেন, ‘ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা পর্যায়ের কয়েকজন বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করতে চাইলেও আসামিরা তাদের ষড়যন্ত্রকারী বলে অ্যাখ্যা দেয়। এরপর আমি শারীরিক-মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মামলা করায়; মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।’

image_pdfপিডিএফ করুনimage_printপ্রিন্ট করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *