‘সাবেক ব্যক্তিগত নির্বাহী হাসপিলের কেনা করাত মিলেছে ফাহিমের বাসায়’

নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় ১৭ জুলাই মধ্যরাতের কিছু পরে বাংলাদেশের শেয়ার রাইডিং অ্যাপ পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ (৩৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন খুনি টেরেস ডেভোন হাসপিলকে (২১) ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে নিউইয়র্কের আদালতে ভার্চুয়াল শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ম্যানহাটনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি লিন্ডা ফোর্ড সন্দেহভাজন খুনি টেরেস হাসপিলকে আদালতে উপস্থাপন করে বলেন, হোমডিপো নামের দোকান থেকে হাসপিলের কেনা ইলেকট্রিক করাত ও ধোয়া-মোছার সরঞ্জামাদি ফাহিম সালেহর অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া গেছে।

অ্যাটর্নি  লিন্ডা ফোর্ড ভিডিও কনফারেন্সে আদালতকে বলেন, সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যাওয়া সন্দেহভাজন খুনির পোশাক টেরেস হাসপিলের ব্রুকলিনের বাড়িতে পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক পুলিশের তদন্ত দল হাসপিলকে প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করতে পেরেছেন বলে ।

ফাহিম সালেহর হত্যার সঙ্গে হাসপিলের জড়িত থাকার জোরালো প্রমাণ আছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি লিন্ডা ফোর্ড বলেন, অপরাধ সংগঠনের আগে ও পরের সার্ভিল্যান্স ভিডিও থেকে অন্তত দুজন শনাক্তকারী হাসপিলকে শনাক্ত করেছেন।

অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি লিন্ডা ফোর্ড আদালতে বলেন, টেরেস হাসপিল তরুণ প্রযুক্তিবিদ ফাহিম সালেহর অন্তত ৯০ হাজার মার্কিন ডলার চুরি করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ বা আইনি আশ্রয়ে না গিয়ে সালেহ কিস্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার সুবিধা করে দিয়েছেন।

প্রসিকিউশন এখনো এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত নন। ধারণা করা হচ্ছে, অর্থের লেনদেন এবং ব্যক্তিগত বিষয়ই এই হত্যাকাণ্ডের কারণ। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে , হাসপিল কোন অর্থ ফেরত দিয়েছেন কি না, সেটি তারা খতিয়ে দেখছেন। এ দেনাই খুন করার জন্য তাঁকে প্ররোচিত করেছে কি না, অর্থ ফেরত প্রদানে অনিচ্ছুক হলে পুলিশে রিপোর্ট হওয়ার ভয়ে এমন করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিচারক জোনাথন সভেটকি জামিনের সুবিধা ছাড়াই হাসপিলকে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে। টেরেস হাসপিলকে আগামী ১৭ আগস্টে আবার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

১৪ জুলাই বিকেলে নিউইয়র্ক নগরের ম্যানহাটনে নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ফাহিম সালেহর খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুরুতে এই হত্যাকাণ্ডকে চরম পেশাদার কোন খুনির কাজ বলে ধারণা করা হলেও ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ফাহিম সালেহর সাবেক ব্যক্তিগত নির্বাহী মাত্র ২১ বছরের টেরেস ডেভোন হাসপিলকে পুলিশ ১৭ জুলাই শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার করে।